গাইনিকোম্যাস্টিয়া: পুরুষের স্তন বৃদ্ধির কারণ ও চিকিৎসা
ডা. মাসরুর-উর-রহমান আবীর
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬
পুরুষের স্তন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘গাইনিকোম্যাস্টিয়া’ বলা হয়। এটি শারীরিক সমস্যার চেয়েও অনেক সময় বড় ধরনের মানসিক অস্বস্তি ও সামাজিক বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা দিলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।
কখন এটি উদ্বেগের কারণ?
সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনগুলো দুই-তিন বছরের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে যদি ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সেও স্তন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসে কিংবা পোশাকের ওপর দিয়েও এটি স্পষ্ট বোঝা যায়, তবে একে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থা যখন একজন পুরুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখনই চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
প্রধান কারণসমূহ
গাইনিকোম্যাস্টিয়া হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:
-
হরমোনজনিত পরিবর্তন: শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে এমন হতে পারে।
-
স্থূলতা: শরীরের অতিরিক্ত মেদ অনেক সময় স্তন গ্রন্থিকে বড় করে তোলে।
-
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের প্রভাবেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
অজানা কারণ: অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এটি ঘটতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
গাইনিকোম্যাস্টিয়ার ধরণ বুঝে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসার পরামর্শ দেন: ১. পরামর্শ: যদি এটি কোনো ওষুধের কারণে হয়, তবে সেই ওষুধ পরিবর্তন বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ২. শল্যচিকিৎসা (অপারেশন): অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো সার্জারি। প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন গ্রন্থির অস্বাভাবিক অংশটি অপসারণ করা হয়। তবে স্তনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বা গঠন বজায় রাখার জন্য চারপাশে চর্বির একটি সূক্ষ্ম স্তর রেখে দেওয়া হয়।
অপারেশন কি জরুরি?
যদি এই সমস্যা আপনার দৈনন্দিন বা সামাজিক জীবনে কোনো মানসিক চাপ তৈরি না করে, তবে অপারেশন করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু যদি এটি আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় বা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে অপারেশনের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান করা উচিত।
লেখক পরিচিতি: ডা. মাসরুর-উর-রহমান আবীর, সহকারী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি), জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।
সারসংক্ষেপ: গাইনিকোম্যাস্টিয়া কোনো প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে এটি পুরুষের ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ নিলে শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে এর থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব।



