যেভাবে চূড়ান্ত হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি
ট্রাম্পের হুংকারের আড়ালে ভিন্ন রূপ:
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬
ইরানি সভ্যতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ‘আলটিমেটাম’ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড় নিয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণার পেছনে কাজ করেছে পর্দার আড়ালের এক বিশাল কূটনৈতিক কর্মযজ্ঞ। অ্যাক্সিওস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মূলত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
১. নেপথ্যে মোজতবা খামেনির ‘সবুজ সংকেত’
এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি সম্পৃক্ততা। গোয়েন্দা সূত্রমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তিনি তার আলোচকদের চুক্তির দিকে এগোনোর নির্দেশ দেন। ইসরায়েলের হামলার আশঙ্কায় তিনি অত্যন্ত গোপনীয় বার্তাবাহকদের মাধ্যমে তার প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। তার এই ‘গ্রিন সিগনাল’ ছাড়া চুক্তি হওয়া অসম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২. পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ
সোমবার ছিল আলোচনার সবচেয়ে ‘বিশৃঙ্খল’ দিন। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প যখন ইস্টার উদযাপনে ব্যস্ত, তখন তার দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের দেওয়া ‘হতাশাজনক’ ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা নেন। মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বিভাজন কমাতে কাজ করেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের দেওয়া শর্তগুলোই দুই পক্ষ মেনে নেয়।
৩. ট্রাম্পের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বনাম বাস্তবতা
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, “আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” এই পোস্ট যখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা তখনো জানতেন না তিনি শেষ পর্যন্ত কী করবেন। তবে পেন্টাগন যখন হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ট্রাম্প তখন গোপনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলে তার প্রতিশ্রুতি আদায় করছিলেন। শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের আসিম মুনিরের সাথে কথা বলে চুক্তিটি চূড়ান্ত করেন তিনি।
৪. চুক্তির শর্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
হরমুজ প্রণালি: চুক্তির পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেবে।
ইসরায়েলের অবস্থান: নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, শান্তি আলোচনায় ইরানকে তার পারমাণবিক উপাদান ত্যাগ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দূর করার শর্ত দেওয়া হবে।
হামলা স্থগিত: ট্রাম্পের ঘোষণার মাত্র ১৫ মিনিট পর মার্কিন বাহিনীকে হামলা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৫. সামনে কী অপেক্ষা করছে?
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্পের কঠোর হুমকির কারণেই ইরান নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ভাবছে, এই হুমকি আদৌ শেষ হয়েছে কি না। দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো প্রকট। ফলে দুই সপ্তাহ পর আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
নিউজ হাইলাইটস:
ট্রাম্পের হুমকির আগেই পর্দার আড়ালে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছিল।
মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো চুক্তিতে সায় দিয়েছেন।
পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই ‘ব্রেকথ্রু’ সম্ভব হয়েছে।




