নেপথ্যের আখ্যান: যেভাবে সবুজ সংকেত দিলেন ট্রাম্প

জোনাথন সোয়ান ও ম্যাগি হাবারম্যান | নিউ ইয়র্ক টাইমস

জোনাথন সোয়ান ও ম্যাগি হাবারম্যান | নিউ ইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মাঝখানের টেবিলে পড়ে আছে ইরানের মানচিত্র। সেই বৈঠকের ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটই বদলে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস।

১. নেতানিয়াহুর সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’
বৈঠকের শুরুতেই নেতানিয়াহু একটি অত্যন্ত গোপনীয় ভিডিও ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখান। তার মূল বক্তব্য ছিল—ইরানে শাসন পরিবর্তনের (Regime Change) সুবর্ণ সুযোগ এখনই। নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় চারটি ধাপ ছিল:

নেতৃত্ব নির্মূল: সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা।

সামরিক পঙ্গুত্ব: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা।

গণ-অভ্যুত্থান: গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ভেতরে দাঙ্গা উসকে দেওয়া।

নতুন সরকার: নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতায় বসানো।

২. ট্রাম্পের ‘শিকারি’ প্রবৃত্তি ও উপদেষ্টাদের সংশয়
ট্রাম্প প্রথম দুটি ধাপে (হামলা ও হত্যা) দারুণ আগ্রহী হলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনাকে ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘ফালতু’ বলে উড়িয়ে দেন।

জেনারেল কেইনের সতর্কতা: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধ আমেরিকার গোলাবারুদের মজুত কমিয়ে দেবে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভ্যান্সের তীব্র বিরোধিতা: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ছিলেন এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিরোধী। তিনি বারবার বলছিলেন, এটি হবে ‘সম্পদের বিশাল অপচয়’ এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

৩. ট্রাম্পের অটল আত্মবিশ্বাস
উপদেষ্টাদের এত সতর্কতা ও ঝুঁকির কথা শুনেও ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ধরার সফল অভিযানের পর তিনি বিশ্বাস করতেন মার্কিন সামরিক বাহিনী অজেয়। তিনি মনে করতেন, হামলা শুরু হলে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে এবং যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না।

৪. ‘ইরানিরা খেলা খেলছে’
এরই মাঝে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছিল। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ একটি বড় প্রস্তাব দেন—ইরানকে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়া হবে যদি তারা সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে। কিন্তু ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প নিশ্চিত হন যে, আলোচনার পথ বন্ধ।

৫. সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’
২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা। সিচুয়েশন রুমে চূড়ান্ত বৈঠক। ট্রাম্প একে একে সবার মতামত চাইলেন।

হেগসেথ: “এখনই করা ভালো।”

রুবিও: “শাসন পরিবর্তন নয়, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা লক্ষ্য হলে আমি আছি।”

ভ্যান্স: “আমি একমত নই, কিন্তু আপনি চাইলে আপনার পাশে আছি।”

অবশেষে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “আমাদের এটা করতে হবে।” পরদিন বিকেলে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ট্রাম্প তার ঐতিহাসিক বার্তা পাঠান— “অপারেশন এপিক ফিউরি অনুমোদিত। কোনো বাতিল নয়। শুভকামনা।”