ট্রাম্পের ‘বোমা’ হামলার হুমকির বিপরীতে ইরানের ‘নতুন কৌশল’

যুদ্ধবিরতি নিয়ে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন নৌ-অবরোধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি যুদ্ধের দামামা নতুন করে বাজিয়ে দিয়েছে। বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দুই দেশের অনড় অবস্থান অঞ্চলটিকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘প্রচুর বোমা হামলা হবে’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় যদি কোনো সমাধান না আসে, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করবে। বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন:

“যদি কোনো সমাধান না আসে এবং ইরান আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে বুধবারের পর ইরানে প্রচুর বোমা হামলা শুরু হবে।”

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্পের মন্তব্য আলোচনায় বসার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।

ইরানের পাল্টা হুমকি: ‘রণক্ষেত্রে নতুন কৌশল’

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় বসবে না। গত দুই সপ্তাহে যুদ্ধের ময়দানের জন্য তারা ‘নতুন কৌশল’ প্রস্তুত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে নৌ-অবরোধ দিচ্ছে এবং অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মূলত তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ করাতে চাইছে।

ইসলামাবাদ বৈঠকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • জাহাজ জব্দ: গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির কাছ থেকে একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

  • অবরোধ: ইরানের দাবি, মার্কিন নৌ-অবরোধ চলমান রেখে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।

  • ট্রাম্পের অনড় অবস্থান: বৈঠকের সময় নিয়ে ট্রাম্পের অসংলগ্ন বক্তব্য এবং কঠোর হুঁশিয়ারি।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর

অনিশ্চয়তার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে। এই দলে আরও রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

সারসংক্ষেপ: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুধবারের মধ্যে কূটনৈতিক কোনো রফা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। সব নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে—ইরান শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যোগ দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বশান্তি।