আশুলিয়ায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত সংবাদকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

আশুলিয়া পেশাগত দায়িত্ব পালন ও অপরাধের বিরুদ্ধে সাহসিকতার চরম মূল্য দিতে হলো সাংবাদিক গোলাম সাব্বির আহমেদকে। ঢাকার আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় একদল সংঘবদ্ধ অপরাধী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অতর্কিত হামলা

গত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পেশাগত কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দৈনিক সমাচারের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি গোলাম সাব্বির। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামিন হোসেন (ডিপজল) নামে এক পরিচিত ব্যক্তির আমন্ত্রণে তিনি কুরগাঁওয়ের “রফিকের টেক” মাঠে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল রানা, আকাশ ও রাসেলসহ বেশ কয়েকজন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে হঠাৎ সোহাগ নামক এক সন্ত্রাসী ধারালো ছুরি বের করে সাব্বিরের মাথায় উপুর্যপরি আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং স্থানীয়রা উদ্ধার করতে এলে জাহাঙ্গীর ও সজিবসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। এমনকি প্রাণ বাঁচাতে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলেও রেহাই পাননি তিনি; সেখানেও তাকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়।

নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা ও প্রতিশোধের নেশা

আহত সাংবাদিক গোলাম সাব্বির জানান, এই হামলাটি ছিল পুরোপুরি পরিকল্পিত। এর আগে সোহাগের ছোট ভাই সজিব কর্তৃক মাদ্রাসার ছাত্রদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশকে তথ্য দেওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ইতিপূর্বে দায়ের করা অভিযোগ এবং সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতেই এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে টার্গেট করে।

“অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার সন্দেহে তারা আমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।” — গোলাম সাব্বির আহমেদ

হামলাকারীদের পরিচয়

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলাকারী সোহাগ, জাহাঙ্গীর ও সজিব এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকমাস আগেই গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

বর্তমান অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ

গুরুতর আহত অবস্থায় সাব্বিরকে প্রথমে হাবিব ক্লিনিক এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা মাথার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন:

“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।”

প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।