কালিয়াকৈরে বকেয়া টাকার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

কারখানায় ভাঙচুর, পুলিশসহ আহত ২০

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লী বিদ্যুৎ দীঘিরপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘আহসান কম্পোজিট’ কারখানায় বার্ষিক ছুটির বকেয়া টাকার দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া এই আন্দোলন একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নিলে কারখানা ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কারখানার কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও নারী শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

কারখানা ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার শ্রমিকদের মধ্যে বার্ষিক ছুটির টাকার স্লিপ বিতরণ করা হয়। তবে শ্রমিকদের দাবি ছিল শতভাগ বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালান।

ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার অফিসকক্ষের থাই গ্লাস, জানালা, দরজা, টেবিল এবং বেশ কিছু কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করেন। বাধা দিতে গেলে কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার মাজহারুল ইসলামসহ ৯ জন কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আলোচনার সুযোগ না দিয়েই হঠাৎ এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং নারী শ্রমিক আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

শিল্প পুলিশের ওসি মোরশেদ জামান জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার চেষ্টা করা হলেও তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বর্তমানে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।