পরিবারজুড়েই মাদকের কারবার: ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে সিআইডির মানি লন্ডারিং মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬
মাদক কারবার ও এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে গাজীপুরের একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিআইডি জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযুক্ত ও মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে
মামলার আসামিরা হলেন—মো. আব্দুল আওয়াল (৬৫), তাঁর তিন মেয়ে আসমা (৪৩), রেশমা খাতুন (৩৯) ও লিজা বেগম (৩১), দুই জামাতা মো. মানিক মিয়া ও মো. কামাল উদ্দিন এবং পুত্রবধূ জাহানারা বেগম। তাদের বর্তমান ঠিকানা গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায়। সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আব্দুল আওয়ালের তিন মেয়ে আসমা, রেশমা ও লিজাই মূলত এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তাঁরা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।
কোটি কোটি টাকার লেনদেন ও অবৈধ সম্পদ
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে প্রায় ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিয়ে তাঁরা জমি কিনেছেন এবং বাকি অর্থের বড় একটি অংশ পুনরায় মাদক ক্রয় ও বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন।
আসামিদের নামে মামলার পাহাড়
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগমের বিরুদ্ধে ৭টি, মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি এবং আসমার বিরুদ্ধে ৩টি মাদক ও অন্যান্য অপরাধের মামলা রয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মাদক কারবার মানি লন্ডারিং আইনের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offense)। টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়ের করা এই মামলাটির তদন্ত বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট করছে। মাদক কারবারের মাধ্যমে গড়ে তোলা এই অবৈধ সম্পদের উৎস এবং এই চক্রের অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।



