ওয়াশিং মেশিন-মাইক্রোওয়েভ ওভেন ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও পর্দা সরবরাহের দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।  জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের উত্থাপিত এ দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ কটাক্ষমূলক মন্তব্য করলে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন আন্দালিব রহমান পার্থ।  তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশের মানুষ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে এবং বর্তমান সংসদের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো এখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।  তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সংসদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যরা শুধু জনগণের প্রতিনিধি নন, তারা সংসদেরও প্রতিনিধি।  দেশ-বিদেশে তারা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করেন।  এ সময় তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘জামায়াত এমপির ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও পর্দা দাবি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, এমন সংবাদ তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত করেছে এবং সংসদের ভাবমূর্তির জন্যও অস্বস্তিকর।

তিনি বলেন, সংসদ জনগণের সমস্যা ও দাবি তুলে ধরার জায়গা।  সেখানে একজন সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা পর্দার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

একাদশ সংসদে গাড়ি ও প্লটের সুবিধা গ্রহণ না করার প্রসঙ্গ টেনে পার্থ বলেন, যখন বড় ধরনের সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে এসব গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে আলোচনা হওয়া দুঃখজনক।

কৌতুকের সুরে তিনি আরও বলেন, ‘যদি ভবিষ্যতে আমার ভাইয়ের একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের প্রয়োজন হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে দিতে প্রস্তুত আছি।  প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব তিনি যেন একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করেন।  আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে তাকে পর্দার ব্যবস্থার অনুরোধ করতাম। তাহলে আমরা মিলে তার সংসার গুছিয়ে দিতে পারতাম।’

পার্থর এ বক্তব্যে সরকারদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।  পরে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।  তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।  তিনি নিজের জন্য নয়, সংসদের দেওয়া আবাসিক ভবনে থাকা সব সদস্যের সুবিধার কথা বলেছেন।

স্পিকার বলেন, বিষয়টি সংসদে না বললেও চলত এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা যেত।  তবে তিনি এমন কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিংবা পর্দা এমন কোনো বড় সুবিধা নয় যে তা নিয়ে সংসদে ব্যাপক বিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।  একই সঙ্গে পার্থর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাবও তার জন্য অসম্মানজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এরপর স্পিকারের অনুরোধ সত্ত্বেও পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।  তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য সবার জন্য একটি দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিষয়টি সংসদে না তুলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে জানানো যেতে পারত।

তবে পার্থর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তার কাছ থেকে আরও সংযত আচরণ প্রত্যাশিত ছিল।  কেউ কিছু না চাইলেও তিনি নিজেই বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা প্রয়োজন ছিল না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে কারও সম্মানে আঘাত করার মতো মানসিকতা থাকা উচিত নয়।  পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।  তিনি বলেন, ফ্ল্যাটগুলোর দরজা-জানালায় এখনো পর্দা লাগানো হয়নি। এছাড়া ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন সরবরাহের কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।  এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সংসদে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।