শ্রমবাজার খোলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার

ডেল্টা ভিসা

ডেল্টা ভিসা

প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন আশার সঞ্চার হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র শ্রমবাজার খুললেই সমস্যার সমাধান হবে না।  দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে হলে অভিবাসন ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, অনথিভুক্ত প্রবাসীদের বৈধকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।  তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে শ্রমবাজার খোলা ও বন্ধ হওয়ার পুনরাবৃত্তির মূল কারণ নিয়োগ ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক কার্যক্রম।

গত দুই দশকে একাধিকবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলেছে এবং বন্ধ হয়েছে।  ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে চালু হলেও ২০১৮ সালে আবার স্থগিত হয়।  পরে ২০২২ সালে নতুনভাবে চালু হলেও ২০২৪ সালে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে সমস্যার মূল উৎস শ্রমবাজার নয়, বরং অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা।

তারা বলছেন, অতীতে কিছু প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করায় কর্মীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে।  অনেক শ্রমিক বিদেশে যাওয়ার জন্য ঋণগ্রস্ত হয়েছেন এবং বছরের পর বছর সেই ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থেকেছেন।  ফলে এবার স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।  সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবোটিকস ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে।  তাই শুধুমাত্র অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনেক অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কোনো অপরাধে জড়িত নন।  প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা নিয়োগকর্তার অবহেলার কারণে তারা বৈধ মর্যাদা হারিয়েছেন।  তাই বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে আঞ্চলিক কনস্যুলার সেন্টার, মোবাইল সেবা ইউনিট এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে।  পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে ভবিষ্যতের শ্রমবাজার বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।  তবে এই সুযোগকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যে পরিণত করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সুশাসনভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।