৭৫০ ডলারে মিলবে মার্কিন ভিসার দ্রুত সাক্ষাৎকার

নতুন পাইলট প্রজেক্ট যুক্তরাষ্ট্রের

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসার (বি-১/বি-২) সাক্ষাৎকারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে একটি নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচি (পাইলট প্রজেক্ট) চালু করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।  এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত ভিসা ফি-এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৭৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়া যাবে।  তবে এই অর্থ দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে,  চলতি সপ্তাহেই ফেডারেল রেজিস্টারে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।  প্রাথমিকভাবে বিশ্বের নির্বাচিত কিছু দেশের মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হচ্ছে।

১০ কর্মদিবসে মিলবে সাক্ষাৎকার

নতুন এই প্রিমিয়াম ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত ফি প্রদানকারী আবেদনকারীরা আবেদন করার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি (Slot) পেয়ে যাবেন।  তবে মার্কিন প্রশাসন পরিষ্কার করে জানিয়েছে, এই সুবিধা কেবল ইন্টারভিউয়ের তারিখ এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।  সাক্ষাৎকারের পর ভিসা প্রক্রিয়াকরণের স্বাভাবিক সময় কমবে না এবং ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও এতে বৃদ্ধি পাবে না।  অর্থাৎ, আবেদনকারীরা কেবল দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ কিনতে পারবেন, নিশ্চিত ভিসা বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নয়।

স্থানভেদে সুযোগ হবে সীমিত

দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা সব মার্কিন দূতাবাসে একযোগে পাওয়া যাবে না।  প্রতিটি মিশনে কতটি প্রিমিয়াম সাক্ষাৎকারের স্লট বরাদ্দ থাকবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় দূতাবাসের সক্ষমতার ওপর।  ফলে দেশভেদে এই সুবিধার প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে এবং চাহিদা বেশি হলে সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নতুন ৭৫০ ডলারের এই ফি-টি বিদ্যমান রেগুলার নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ফি-এর অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করতে হবে, এটি কোনো বিকল্প ফি নয়।  ফলে দ্রুত সাক্ষাৎকার নিতে চাওয়া আবেদনকারীদের মোট ভিসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ জট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।  এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার ওপর চাপ কতটা কমানো সম্ভব এবং ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীরা অতিরিক্ত অর্থ দিতে কতটা আগ্রহী, তা যাচাই করাই এর মূল লক্ষ্য।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।  ৬ মাসের এই পরীক্ষামূলক সময় শেষে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে যে কঠোরতা আরোপ করছে, এই নতুন কর্মসূচি সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই অংশ।  সম্প্রতি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।  পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অতীত ইতিহাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (Social Media) হিসাবও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।  আর এই অতিরিক্ত স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাইয়ের কারণেই বিশ্বজুড়ে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।