যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এবার রুশ ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।  গত ২৪ ঘণ্টায় মস্কো ও এর আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আকাশ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মস্কো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।  এছাড়া বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।  যদিও স্বাধীনভাবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে হামলার সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলে।  সেখানে একটি তেল সংরক্ষণাগারে ড্রোন হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত একজন নিহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রতি নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে এবং রাশিয়াকে কূটনৈতিক পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

জেলেনস্কি আরও বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি। কিন্তু যদি ইউক্রেন জ্বলে, তবে রাশিয়াও জ্বলবে।”  তার এই বক্তব্যকে যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিয়েভের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলার ফলে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কাপোতনিয়া তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।  গত এক মাসে এটি ওই স্থাপনায় তৃতীয় এবং চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংকের ঢাকনা কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিটকে পড়ে।

এ ছাড়া হামলার সময় কাছাকাছি একটি শপিং সেন্টারেও আগুন লাগে।  প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ভবনটির ওপর পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়।  নিরাপত্তার কারণে আশপাশের কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।  এর ফলে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।  এতে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ব্যাপক ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে যুদ্ধ এখন শুধু ফ্রন্টলাইনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং উভয় পক্ষই একে অপরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।  ফলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে।  এরই মধ্যে উভয় পক্ষের হাজার হাজার সেনা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে এই সংঘাত।