হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-এর সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল—এমন দাবি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN-এর এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত কূটনৈতিক চাপের মুখে এসে এই সমঝোতায় পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।
মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরান
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। তবে আরেকটি সূত্রের দাবি, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে এ সমঝোতায় ভূমিকা রেখেছে।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ও দোহা পৃথকভাবে ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করে।
আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও সংশয়
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না এবং এর শর্তাবলি কী—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (Israel Defense Forces) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন বলেন, তারা রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে এবং দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর “পূর্ণ স্বাধীনতা” বজায় রয়েছে।
এ কারণে যুদ্ধবিরতির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সংঘর্ষ ও সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননে ব্যাপক হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়। এরপরই আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ইরান এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং ইসরায়েলের ওপর যুদ্ধবিরতির চাপ বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে চাপ বাড়তে থাকে।
এছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জি-সেভেন বৈঠকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। আনুষ্ঠানিক শর্ত ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে স্পষ্টতা না থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেছে—এমন নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।



