জলবায়ুজনিত অন্তত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২৬
বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের অঞ্চলের ওপর জলবায়ুর আটটি প্রধান প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এসব প্রভাব হলো—উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ, চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১০ কোটি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি ঝুঁকি হলো খরা, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি চরম তাপমাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ।
এই তিনটি ঝুঁকির সম্মিলিত প্রভাবে বিশ্বে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে নাইজেরিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানে ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতে ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু রয়েছে।
ইউনিসেফ জানায়, গত ২০ বছরে তিন বা ততোধিক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় সব শিশুই অন্তত একটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এছাড়া প্রায় ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি এবং ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু চার বা তার বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি সাত বা তার বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজারই মায়ানমারে বসবাস করছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, জলবায়ু সংকট মূলত শিশুদের অধিকারের সংকট, যেখানে শিশুরাই সবচেয়ে আগে ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, বিশ্বের সব অঞ্চলে ঝুঁকি সমান নয়। কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল—বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশ—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো জনবহুল দেশগুলোতে অন্তত তিনটি ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে শতকরা হিসেবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
এছাড়া চাদের মতো কিছু দেশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্রও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে সীমিত মিঠাপানি, ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



