বাংলাদেশ ও আজারবাইজানে স্থায়ী দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশ ও আজারবাইজান নিজ নিজ দেশে স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভের মধ্যে টেলিফোনে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

আলোচনার শুরুতে জেইহুন বায়রামভ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান।  তিনি বাংলাদেশের এ কূটনৈতিক অর্জনের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কথোপকথনে উভয় মন্ত্রী বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  এ সময় তারা নিজ নিজ দেশে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মিশন বা স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।  পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ড. খলিলুর রহমান এ সময় আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।  তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠা সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র আজারবাইজান জ্বালানি সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।  অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।  ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগও ব্যাপক।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।  এর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হতে পারে।  একই সঙ্গে ককেশাস ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করার লক্ষ্যে দূতাবাস স্থাপনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।