ইউরোপে কমেছে আশ্রয় আবেদন

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬

এক দশক ধরে ধারাবাহিক বৃদ্ধির পর ২০২৫ সালে ইউরোপে শরণার্থী ও অভিবাসী জনসংখ্যা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।  একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমেছে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা।  বার্লিনভিত্তিক রকউল ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫ লাখ ৯০ হাজার।  ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৫ লাখ ৮০ হাজার।  অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর যে দ্রুত হারে শরণার্থী বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই থেমে গেছে।

অন্যদিকে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ইউরোপে মোট আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার।  যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১০ হাজার এবং ২০২৩ সালে ছিল ১১ লাখ।

রকউল ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক টোমাসো ফ্রাত্তিনি বলেন, ইউরোপে অভিবাসনের দ্রুত বৃদ্ধির সময়কাল সম্ভবত শেষের দিকে।  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেশভেদে ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।  জার্মানিতে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।  ইতালিতে এই হার আরও বেশি, প্রায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানিতে সংখ্যা কমার প্রধান কারণ অভিবাসীদের দেশত্যাগ নয়।  বরং নতুন অভিবাসন কমে যাওয়া এবং আগে আসা অনেক শরণার্থীর জার্মান নাগরিকত্ব লাভ।  বিশেষ করে সিরিয়া ও ইরাক থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে।

এদিকে ২০২৪ সালের শেষদিকে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের পর সিরীয় নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন ৭০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।  বিপরীতে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৯১ হাজারে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সব শরণার্থীর প্রায় অর্ধেকই ইউক্রেনের নাগরিক।  ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে তারা বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি নিয়ে ইউরোপে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সামগ্রিকভাবে শরণার্থী প্রবাহ এখন স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।