সমুদ্র আমাদের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৬

বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলকে শুধু ভৌগোলিক সীমা হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে সমুদ্রসীমার গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) এ বছরের প্রতিপাদ্য “সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন”—বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  তার মতে, সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ ও নির্ভুল আদান-প্রদান শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বাণিজ্যিক সুযোগ রয়েছে।  সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন, উপকূলীয় উন্নয়ন এবং নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতি বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  এ লক্ষ্যে আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব।  এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং সুনীল অর্থনীতি ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।