সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আজ, আলোচনায় লেবানন সংকট

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা আজ রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে।  তবে লেবাননে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উত্তেজনার কারণে এই বৈঠককে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন ছেড়ে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।  অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন, সঙ্গে থাকছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির।  যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, আর কাতারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্স ছাড়াও রয়েছেন জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ।  তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এবং তেল ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে এটি হবে সদ্য স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর পর দুই দেশের প্রথম সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা।

ইরানি সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় লেবানন ইস্যুই থাকবে তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।  এক ইরানি কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে আলোচনার পরবর্তী ধাপকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করবে না।

তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে সংঘাত অব্যাহত থাকায় চুক্তির মৌলিক শর্ত পূরণ হয়নি বলে ইরান মনে করছে।  তাই লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে আলোচনা এগোনো কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আলোচনায় তিনটি বিষয় অগ্রাধিকার পাবে—ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব লেবানন পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।  তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।  একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা না হলে ওই নৌপথে নতুন শুল্ক আরোপের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত।  প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি থাকলেও এই মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠকে ইরান লেবানন সংকটকে প্রধান চাপের বিষয় হিসেবে সামনে আনছে।  তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি সম্ভব নয়।