তীব্র বিক্ষোভে অস্থির বলিভিয়া, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬
টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল।
শনিবার (২০ জুন) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি পুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেন।
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া বর্তমানে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে গত মে মাসের শুরুতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ‘বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল’ (সিওবি)।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর শুক্রবার (১৯ জুন) সরকার ও সিওবি একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী, সরকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর সিওবি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। তবে এই চুক্তিতে সব শ্রমিক গোষ্ঠী সন্তুষ্ট হয়নি।
সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপারে অঞ্চলের শ্রমিক ও কোকা চাষিরা এই চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৫০টি স্থানে অবরোধ চলছে।
টানা দেড় মাসের আন্দোলনে রাজধানী লা পাজসহ প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অবরোধ বা সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসা মধ্য-ডানপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজের নেতৃত্বে বলিভিয়ায় দীর্ঘ ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে। তবে ক্ষমতায় আসার পরপরই শ্রমিক, কৃষক, খনি শ্রমিক ও শিক্ষকরা তার অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
প্রেসিডেন্টের দাবি, এই বিক্ষোভের পেছনে মাদক-সন্ত্রাসী চক্র এবং আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের হাত রয়েছে।



