ঢাকা দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে, বেশি শঙ্কা ২৭টিতে: ডিএসসিসি প্রশাসক

“পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬

বর্ষা মৌসুমের আগে এডিস মশার লার্ভা জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৩টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

মশার ঘনত্বের ভিত্তিতে এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কিত এক অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জরিপের বিস্তারিত ফলাফল ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আবদুস সালাম বলেন, গেল ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী পরিচালিত মশক জরিপে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এ জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন। তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক কোবো টুলবক্স ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, “জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউজ ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স ও পিউপা ইনডেক্সের ভিত্তিতে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।

“জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের ভিত্তিতে ২৭টি ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

“পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে। আক্রান্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। ”

তিনি বলেন, জরিপে মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পানি ধারণকারী পাত্র চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ড্রাম, মেঝেতে জমে থাকা পানি এবং বালতিতে জমে থাকা পানিতে উল্লেখযোগ্য হারে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

তার কথায়, “অনেকে বাথরুম বা অন্যান্য স্থানে বালতিতে কয়েকদিন পানি জমিয়ে রাখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

আবদুস সালাম বলেন, সাধারণ ধারণার বিপরীতে এডিস মশা নোংরা বা পচা পানিতে নয়, বরং পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৬ জুন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি আয়োজন করা হবে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে।

এছাড়া ৭ জুন থেকে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে থাকা ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

“সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন, আর সেই বার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করছি।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশাত পারভীন।