পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনের পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২৬

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলেও বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা ও ভারতীয় অংশের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে পড়ে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ওই ১০ জন শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতের ভেতরে তারা অবস্থান করছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোরের দিকে সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত এলাকায়। এলাকাটি নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ী বিওপির আওতাধীন, যেখানে সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫ এবং এর বিপরীতে ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্প অবস্থিত।

ভোরে গেট খুলে পুশ-ইনের চেষ্টা

বিজিবি জানায়, ভোরের দিকে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে নারী–শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এ সময় বিজিবির টহল দল বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আবার ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছে।

ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল জোরদার করা হয়েছে।

পতাকা বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি

৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বড়বাড়ী ক্যাম্পের বিপরীতে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।”

তিনি আরও বলেন, বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের গ্রহণ করা হয়নি।

পরিচয় নিশ্চিত নয়

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ১০ জন বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় যাচাইয়ের আগে সীমান্ত দিয়ে এভাবে ঠেলে পাঠানো নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেছে বিজিবি।

এদিকে সীমান্তে অবস্থানরত ওই ১০ জনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। উভয় বাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।