ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬
ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে অনলাইনভিত্তিক ‘ই-ঋণ’ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন এ ব্যবস্থায় গ্রাহকরা ঘরে বসেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে ব্যাংকে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন হবে না।
গত ১১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠায়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-ঋণ কার্যক্রম চালু করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নেওয়া হলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।
ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করতে হবে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না।
এ ছাড়া সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল কিংবা আগাম ঋণ পরিশোধ ফি—সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে দ্বিস্তর ও বহুমাত্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং এককালীন পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ই-ঋণ কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করার পর এ সেবা চালু করতে হবে।



