নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন বেতন হতে পারে ২০ হাজার টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম দুই ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে কার্যকর করা হবে। তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিগত সম্মতির আভাসও পাওয়া গেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে পেনশন সুবিধাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০ হাজার টাকার কম পেনশনভোগীদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনে ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বয়স্ক পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ভাতারও সুপারিশ এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সীরা ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮ হাজার টাকা এবং এর কম বয়সীরা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত চিকিৎসা ভাতা পেতে পারেন।
কমিশনের সুপারিশে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে প্রথম ধাপ বাস্তবায়নেই কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধীরে ধীরে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই ঝুঁকছে সরকার। বাজেট সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



