গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল, জুন থেকেই কার্যকর
পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি; ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬
দেশে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন (ট্রান্সমিশন) চার্জও ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চলতি জুন মাস থেকেই নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে।
নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় ইউনিট মূল্য ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা সবচেয়ে কম। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সংগ্রহ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় খাতটির আর্থিক চাপ সামাল দিতে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের ওপর। আবাসিক গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর প্রভাব পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের ওপরও পড়তে পারে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।
গণশুনানিতে বিভিন্ন ভোক্তা সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত কমিশন মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে জুন মাস থেকেই দেশের কোটি কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহককে নতুন হারে বিল পরিশোধ করতে হবে।



