রোমানিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের চাহিদা বাড়ছে, প্রকাশিত নতুন তথ্য
ডেল্টা ভিসা
প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬
রোমানিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৮ হাজার ৩১৯টি ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে।
রোমানিয়া সরকারের জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই) সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের নাগরিকদের জন্য মোট ৮২ হাজার ১৮০টি ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৫ হাজার ৪৯৬টি ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন নেপালের নাগরিকরা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যাদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে ১৩ হাজার ৬৯৩টি ওয়ার্ক পারমিট। বাংলাদেশ ৮ হাজার ৩১৯টি ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতের নাগরিকরা পেয়েছেন ৮ হাজার ৮২টি এবং পাকিস্তানের নাগরিকরা পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৯০টি ওয়ার্ক পারমিট।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক আবেদনকারীও রয়েছেন, যারা ২০২৪ সালে আবেদন করলেও ২০২৫ সালে এসে ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন পেয়েছেন।
এদিকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রোমানিয়ায় বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৩৫ জন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৯৫ জন কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিট পেয়েছেন। এছাড়া ৫০০ জন শিক্ষার্থী, ১৬৫ জন পারিবারিক পুনর্মিলনের আওতায় এবং ৬০ জন স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করছেন।
আইজিআইয়ের তথ্য বলছে, দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে রোমানিয়ায় সবচেয়ে বেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন নেপালের নাগরিকরা। তাদের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৩৩০ জন। এরপর রয়েছে শ্রীলঙ্কার ২৭ হাজার ৩৮০ জন, ভারতের ১৪ হাজার ৬১০ জন এবং পাকিস্তানের ৫ হাজার ২৬৫ জন নাগরিক।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ রোমানিয়ায় শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থান খুঁজছেন এমন বাংলাদেশিদের জন্য রোমানিয়া গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, চাকরির জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, চুক্তিপত্র এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের মাধ্যমেই বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে সফল করা সম্ভব।



