আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে প্রবাসীদের জন্য সুখবর
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার। অভিবাসীদের কাজের প্রক্রিয়া সহজ করতে দেশটির ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয়। মূলত আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটানোই এই ঐতিহাসিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য। গত সোমবার (৮ জুন) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে দেশটির মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নতুন সংস্কার কার্যক্রমটি সরকারের ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি’ উদ্যোগের অংশ। এর আওতায় পারমিট আবেদনের ক্ষেত্রে আগের মতো অতিরিক্ত বা সহায়ক নথিপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে কিছু পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। এখন থেকে একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা ঘরে বসেই সব ধরণের সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, যা উভয় পক্ষের জন্য সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী হবে।
নতুন এই নিয়মের আওতায় আমিরাত সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বিদেশ থেকে সরাসরি নিয়োগের পারমিট, ট্রান্সফার পারমিট, পার্ট-টাইম পারমিট, ফ্রিল্যান্স পারমিট, গোল্ডেন রেসিডেন্সি ধারকদের বিশেষ পারমিট, কিশোর ওয়ার্ক পারমিট, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ পারমিট এবং পরিবার-স্পন্সরকৃত ব্যক্তিদের ওয়ার্ক পারমিট।
এদিকে, এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও ফলপ্রসূ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি অনলাইন জনপরামর্শ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, নিয়োগকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট সেবা নিয়ে তাঁদের মতামত ও উন্নয়নমূলক প্রস্তাব সরাসরি সরকারকে জানাতে পারবেন। বিশেষ করে পারমিট ইস্যুর প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও সহজ করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় শর্ত কমানো যায়, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত আছেন। নতুন এই ডিজিটাল ও সহজীকরণ সংস্কারের ফলে সাধারণ প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমিরাত সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



