লাগেজ চুরি ও হয়রানি ঠেকাতে শাহজালালে নজরদারি জোরদার

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, ট্রলির সংকট, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান ৭ অক্টোবর রাতে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ তথ্য জানান। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নওশাদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের সহায়তায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়।

ট্রলি সংকট কমাতে উদ্যোগ

বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা উন্নত করতে বর্তমানে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রলি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে মেরামতের মাধ্যমে প্রায় ৫০০টি ট্রলি পুনরায় চালু করা হয়েছে। আরও এক হাজার ট্রলি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্রলির অবস্থান ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। শিফটভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বিমানবন্দরের কোন স্থানে কতটি ট্রলি রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্যও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যাত্রী বাড়ায় চাপ, রাতে দীর্ঘ লাইন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রানওয়ে সংস্কারের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল সীমিত থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করছে। এতে কোনো কোনো সময়ে যাত্রীর সংখ্যা উপলব্ধ ট্রলির তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে ট্রলি পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ। বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। যাত্রীদের সঙ্গে আসা-যাওয়া করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি।

এত বিপুল মানুষের চলাচলের কারণে নানা ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

লাগেজ চুরি বা হয়রানির অভিযোগ জানাবেন যেখানে

লাগেজ চুরি, লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা অন্য কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ জানানো যাবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন।

অভিযোগ তদন্তে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। লাগেজ চুরির ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।