বাংলাদেশে বিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে সংসার-এখন আরও কঠিন
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট (Adjustment of Status) প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারির পর প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তানদের বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিয়ে করে জীবনসঙ্গীকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার প্রচলিত প্রক্রিয়া এখন আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে।
প্রবাসী পরিবারগুলো জানায়, আগে অনেকেই দেশে গিয়ে সন্তানদের বিয়ে দিয়ে স্পাউস ভিসার মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতেন। তবে বর্তমানে স্পাউস ভিসা ও গ্রিনকার্ড-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে নবদম্পতির দীর্ঘ বিচ্ছেদ, মানসিক চাপ, পারিবারিক অস্থিরতা এবং কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে।
এ কারণে অনেক অভিভাবক এখন বাংলাদেশ থেকে পাত্র-পাত্রীর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খোঁজার দিকে ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে আসা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক দায়িত্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার পার্থক্যের কারণে দাম্পত্য জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কেবল বিশেষ পরিস্থিতির প্রমাণ দিতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ মিলবে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করা হবে। আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, আইন মেনে চলার রেকর্ড, তথ্য গোপনের অভিযোগ বা অন্য কোনো জটিলতা থাকলে আবেদন অনুমোদন কঠিন হতে পারে। তবে বৈধভাবে অবস্থানকারী এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হবে। অন্যদিকে অতীতে ওভারস্টে বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে প্রবাসী পরিবারগুলোর সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে। তারা বিয়ে বা অভিবাসন-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে বলেন, অভিবাসন সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গুরুতর অপরাধ এবং এর ফলে স্থায়ীভাবে অভিবাসন সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।



