অনিশ্চয়তায় টিপিএসধারীরা

আমেরিকায় অভিবাসন নীতিতে নতুন মোড়

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

আমেরিকায় টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বা অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় বসবাসরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, টিপিএসধারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মোলেন বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়। তাই যাদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নেই, তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে। স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহীদের বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন জীবন শুরু করার জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক বিভক্ত রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতি ও সিরিয়ার শত শত অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের অনুমতি পায়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে টিপিএস সুবিধা ভোগ করা এসব অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরীয়দের জন্য টিপিএস সুবিধা চালু করা হয়েছিল। এতদিন নিয়মিত নবায়নের মাধ্যমে তারা এই সুরক্ষা পেয়ে এলেও এখন তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইতিয়ানদের নিজ দেশে ফেরানো নিরাপদ নয়। তার মতে, এসব অভিবাসী স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণ পরিচর্যা এবং বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের সরিয়ে দিলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিষয়ে উচ্চমাত্রার সতর্কতা বহাল রেখেছে। সেখানে সহিংসতা, অপরাধ, অপহরণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে টিপিএস সুবিধাভোগী হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।