বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য আমেরিকার ২০ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড স্থায়ী
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬
পর্যটন ও ব্যবসায়িক (বি-১/বি-২) ভিসার ক্ষেত্রে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করেছে আমেরিকা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ নিয়মের আওতায় বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিক পড়বেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আমেরিকার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক বছরের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নে কর্মসূচিটি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এটিকে স্থায়ী করা হচ্ছে। নতুন বিধান সোমবার থেকে কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে এ তালিকায় আরও দেশ যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে বন্ডের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার। আবেদনকারীর ঝুঁকি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করতেন। নতুন নিয়মে বন্ডের পরিমাণ হবে ১০ হাজার অথবা ২০ হাজার ডলার।
এই শর্ত শুধুমাত্র বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকদের সাক্ষাৎকারে ভিসা দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে নির্ধারিত অঙ্কের বন্ড জমা দিতে হবে। আমেরিকায় গিয়ে ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
কেন চালু হয়েছিল এই কর্মসূচি?
অবৈধ অভিবাসন কমানো এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমেরিকায় থেকে যাওয়ার প্রবণতা রোধে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু করে।
আমেরিকার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থানকারী একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকারের গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার ব্যয় হয়।
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রভাব
নতুন নিয়মে আফ্রিকার অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে বন্ড জমা দেওয়া এখন স্থায়ী শর্ত হয়ে গেল।
এর প্রভাব আমেরিকায় ভ্রমণের পরিকল্পনাকারী পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ওপর পড়তে পারে। তবে শিক্ষার্থী (এফ-১), কর্মসংস্থানভিত্তিক বা অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যা বলছে আমেরিকা
আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তালিকাভুক্ত ৫০টি দেশের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ নাগরিক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমেরিকায় অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রথম ১০ মাসে বন্ডের আওতাভুক্ত আবেদনকারীদের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে নেমে আসে।
শুরুতে পররাষ্ট্র দপ্তরের ধারণা ছিল, বছরে প্রায় ২ হাজার আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারী এই শর্তের আওতায় পড়েন। তাঁদের প্রায় অর্ধেক বন্ড জমা না দেওয়ায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বি-১ ও বি-২ ভিসা ইস্যুর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমে যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে এসব ভিসার আবেদন আরও কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
সমালোচকদের মতে, ১০ থেকে ২০ হাজার ডলারের বন্ড নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, ব্যবসায়িক সফর বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনাকারীদের জন্য এই শর্ত আমেরিকার ভিসা পাওয়া আরও কঠিন করে তুলতে পারে।



