বিদেশগামী কর্মীরা পাবেন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬
বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যয় মেটাতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা এই ঋণ কর্মসূচিতে একজন কর্মী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন তফাদার জানান, ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলটি ২০০ কোটি টাকা করে পাঁচ ধাপে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দেওয়া হবে। প্রতিটি ধাপের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের মূল্যায়নের পর পরবর্তী কিস্তি ছাড় করা হবে।
ঋণের পরিমাণ ও শর্ত
ঋণ কর্মসূচির প্রধান শর্তগুলো হলো—
- সর্বোচ্চ ঋণ: ১০ লাখ টাকা
- জামানত: প্রয়োজন নেই
- সর্বোচ্চ সুদের হার: ৯ শতাংশ
- প্রাথমিক মেয়াদ: ৩ বছর
- গ্রেস পিরিয়ড: ৬ মাস
- বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৫ বছর
জামানত না লাগলেও ঋণের জন্য দুজন গ্যারান্টর দিতে হবে। তাঁদের একজন আবেদনকারীর নিকটাত্মীয় বা পরিবারের সদস্য হতে হবে। অন্যজনকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি হতে হবে।
যেসব কাজে ঋণ ব্যবহার করা যাবে
ঋণের অর্থ দিয়ে ভাষা প্রশিক্ষণের টিউশন ফি, কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত প্রশিক্ষণের ব্যয় মেটানো যাবে। অনুমোদিত ক্ষেত্রে থাকা-খাওয়ার খরচও এ অর্থ থেকে দেওয়া যাবে।
তবে বিমানের টিকিট কেনার জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না। বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ পাবেন না।
কারা আবেদন করতে পারবেন
সরকারি বা বেসরকারি বৈধ নিয়োগপথে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—
- বৈধ পাসপোর্ট
- বৈধ ভিসা
- যেখানে প্রযোজ্য, সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি
- ভাষা বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের যোগ্যতার সনদ
- প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাকেন্দ্রের অফার লেটার
অফার লেটারে টিউশন ফি, প্রশিক্ষণের মেয়াদ এবং থাকা-খাওয়ার ব্যয় কে বহন করবে, তা উল্লেখ থাকতে হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর শাখা পর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হবে। এরপর আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্দেশনা দেওয়া হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আবেদনকারীকে শাখায় গিয়ে ঋণ গ্রহণের সম্মতি দিতে হবে।
প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই; অনলাইনেই আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৮১ জন আবেদনকারীকে মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে দ্বিস্তরীয় পর্যবেক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হলে তাঁদের ভালো বেতনের চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী আয়েও।



