সরকারি চাকরিতে বড় সুখবর, পাঁচ বছরে ৫ লাখ নিয়োগের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ পূরণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারি সেবার মান আরও উন্নত হবে, অন্যদিকে লাখো শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে বিদ্যমান শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের লক্ষ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে বিপুলসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সরকারি কর্মচারীদের জনবলসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির (১ম থেকে ৯ম গ্রেড) ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম থেকে ১২তম গ্রেড) শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে (১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেড) রয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদ, যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে (১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড) ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ৯৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের শূন্য পদ এবং নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ৪৫৯টি পদে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে আরও হাজারো পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরিতে বড় পরিসরের এই নিয়োগ কর্মসূচি দেশের কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট কমে আসায় নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে।
তারা বলছেন, বর্তমানে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে । এই বাস্তবতায় বৃহৎ পরিসরের নিয়োগ উদ্যোগ সরকারি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে লাখো চাকরিপ্রত্যাশী নতুন সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি দূর হয়ে সেবা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



