অ্যান্টার্কটিকায় পর্যটন বিস্ফোরণ ও সংক্রামক ব্যাধির হানা

হুমকির মুখে হিমশীতল স্বর্গ

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও সংবেদনশীল অঞ্চল অ্যান্টার্কটিকা এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বরফের এই রাজ্যে মানুষের আনাগোনা বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশ দূষণ এবং বিরল রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি এক ডাচ ক্রুজ জাহাজে বিরল হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ‘লাস্ট চান্স’
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিকার বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এই হার এতটাই উদ্বেগজনক যে, ২০০২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪৯ বিলিয়ন মেট্রিক টন বরফ হারিয়েছে মহাদেশটি। এই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হাত থেকে মহাদেশটিকে আর রক্ষা করা যাবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই পর্যটকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ‘লাস্ট চান্স ট্যুরিজম’। অর্থাৎ, চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার দেখে নেওয়া। গত তিন দশকে এখানে পর্যটনের হার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। ২০২৪ সালে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি বরফে পা রেখেছেন এবং আরও ৩৬ হাজার মানুষ জাহাজে চড়ে এলাকাটি ঘুরে দেখেছেন।

হান্টাভাইরাস ও বার্ড ফ্লু’র উদ্বেগ
অ্যান্টার্কটিকার পবিত্র পরিবেশে এখন মানুষের মাধ্যমে ঢুকছে বিভিন্ন রোগ। সম্প্রতি একটি জাহাজে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা পরিবেশবিদদের শঙ্কিত করেছে। অতীতেও এই অঞ্চলে নরোভাইরাস ও কোভিডের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। এর ফলে বন্যপ্রাণীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পুরো বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধ ও ভবিষ্যৎ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। এখন থেকে বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি যাওয়া কিংবা প্রাকৃতিক কোনো কিছু স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ১৯৫৯ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় এই মহাদেশ পরিচালিত হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমানের পর্যটন বিস্ফোরণ সামলাতে এই আইন যথেষ্ট নয়। হিমশীতল এই মরুভূমির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে আরও কঠোর ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র: এপি (AP)