টিকটক-ফেসবুক ব্যবহারে বয়সসীমা ১৬, নতুন আইন আনছে যুক্তরাজ্য

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার।  দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।

নতুন এই নীতির আওতায় টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীরা প্রবেশাধিকার পাবেন না।  এছাড়া কিছু স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, যদিও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইনটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সংসদে পাস করা হবে এবং ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।  তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ রাখা এবং তাদের স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুধু সামাজিক মাধ্যম নয়, বরং লাইভস্ট্রিমিং, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অনলাইন ফিচারও সীমিত করা হবে।  এসব বিধিনিষেধ গেমিং প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো ব্যক্তিগত মেসেজিং অ্যাপগুলোকে আপাতত এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত গেমিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।  কারণ অনেক গেমিং কোম্পানি সামাজিক মাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে থাকে।  একই সঙ্গে ডিসকর্ড, টুইচ ও অন্যান্য অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও নতুন নিয়মের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়াও এর আগে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।  বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি কমবে, সাইবার হয়রানি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রভাব হ্রাস পাবে এবং তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ আরও সুরক্ষিত হবে।