রবিবারই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
পশ্চিমা এক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তির ভাষা এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে তেহরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে যে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করলেই হবে না, লেবাননেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
সূত্র জানায়, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Baqer Qalibaf আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
সমঝোতার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পথে অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই তিনি নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধানে পৌঁছেছি।”
তবে ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে তেহরানের দীর্ঘদিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তির আলোচনা
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলো আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক সহায়তা পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও কমতে শুরু করেছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
ইসরায়েলের আপত্তির সম্ভাবনা
সম্ভাব্য সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য সংবেদনশীল হতে পারে।
ইসরায়েল চলমান শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের কোনো পক্ষভুক্ত নয় ইসরায়েল।
এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি
যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তবুও সব বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং আলোচনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাকি রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।



