‘গুলি করে বাংলাদেশে ছেড়ে দিয়েছে বিএসএফ’, হাসপাতালে দুই ভারতীয়

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত দুজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শরীরে ছররা গুলির মতো অসংখ্য ক্ষত রয়েছে।

আহতরা হলেন ভারতের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরোনো ভবনের চতুর্থ তলার ১৫ নম্বর সার্জারি পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ইসমাইলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির মতো ক্ষত রয়েছে। তাঁর ডান হাতেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। অন্যদিকে খাজা আব্দুল আলীমের পেটে গুলির মতো ক্ষত রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তিনি কথা বলতে পারছেন না।

চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেনের দাবি, রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার নারায়ণপুর স্থলবন্দরসংলগ্ন চরে তাঁরা নিজেদের গরু দেখাশোনা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের বাংলাদেশি বলে গালাগাল করেন।

ইসমাইলের ভাষ্য, তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক এবং গরু পাচারকারী নন বলে বিএসএফ সদস্যদের জানান। কিন্তু তাঁদের কথা না শুনে বিএসএফ সদস্যরা দুই নদী পার করে তাঁদের দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান এবং গুলি করেন।

তিনি বলেন, গুলিতে আহত হয়ে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অচেতন ছিলেন। পরে তাঁদের বাংলাদেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। নদীতে মাছ ধরতে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছে সাহায্য চাইলে তাঁরা প্রথমে তাঁদের যাত্রাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় রাত ৯টার দিকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে তাঁদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আহত দুই ভারতীয় নাগরিক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি উলিপুর সীমান্ত এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি।

কুড়িগ্রাম বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আহত দুই ব্যক্তির দাবি ও হাসপাতালে তাঁদের শারীরিক অবস্থার বাইরে ঘটনাটির বিস্তারিত এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।