আমেরিকার বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারাল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

আমেরিকার বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমায় চীন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।

আমেরিকার বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ আমেরিকার বাজারে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, একই সময়ে চীন আমেরিকায় ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে চীনের রপ্তানিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি মূল্যের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে চীন।

এই সময়ে আমেরিকার বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে ভিয়েতনাম। দেশটি ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কম।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে আমেরিকার ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এ আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম আট মাসে আমেরিকার তৈরি পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

একক দেশ হিসেবে আমেরিকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে এই বাজার থেকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২২ সালে রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছায়। পরের বছর তা ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

২০২৪ সালে রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮২০ কোটি ডলারে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি চীনের রপ্তানি তুলনামূলক বেশি কমেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতার ব্যবধানও বদলে গেছে। অটেক্সার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।