তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার পর মসজিদের পুকুরে গোসল করেন সুমন: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। পুলিশের দাবি, তাজমিনকে হত্যার পর ঘটনাস্থলের পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করেন তিনি। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদে গিয়ে তাজমিনের আইফোন লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া। এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা কাউন্টারে নামে তাজমিন। পরে রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে সে। ভাড়া ঠিক হয় ৩০০ টাকা। পথে সুমনকে দিয়ে কলা ও রুটি কিনিয়ে নেয় তাজমিন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাজমিনকে দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন উল্টো চাঁদপুর সড়কের দিকে চলে যান। পরে লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকায় ফিরে আসেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা কেটে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জগৎপুর এলাকায় গিয়ে সুমন অটোরিকশা থামালে তাজমিন বুঝতে পারে, সে পরিচিত এলাকায় নেই। ভীত হয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এরপর তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। নিজের অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখে কাছিকাটা মসজিদের সামনে যান তিনি। সেখানে পুকুরে গোসল করার পর ভাড়ায় চালিত আরেকটি অটোরিকশায় বাখরাবাদে যান। ওই এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে পরে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই ছিল একটি পরিত্যক্ত অটোরিকশা।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।