প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হাসনাতের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রশ্নফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। তবে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, টেকনিক্যাল মোড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, প্রশ্নফাঁসের কারণে তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর যে আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি হয়েছে, তার দায় কে নেবে?
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় ঢাকায় এসেছিলেন। অথচ আগের রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়াচ্ছিল। পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ঘটনাকে ‘নির্মম রসিকতা’ আখ্যা দিয়ে হাসনাত বলেন, তিন লাখ তরুণের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে? নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে, যা জনগণের টাকা। এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, বছরের পর বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম না থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। বেকার তরুণদের অর্থ ও আবেগ নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর কত দিন চলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ২০০টির বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছিলেন। এত বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের দেশে সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে গ্রেপ্তার এবং তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকরের আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে ব্যর্থ হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের অংশ হলে তা নির্মূল করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



