রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন অগ্রগতি, শুরু হলো বিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রোববার দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সব পরিমাপক বা প্যারামিটার নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও জানান তিনি।
প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
চুল্লি চালুর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ ধাপ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে জটিলতাও কেটে গেছে।
এর পরবর্তী ধাপ ‘বি-২’। এ পর্যায়ে প্রাথমিক কার্যক্রমের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য
ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর বিভিন্ন ধাপে চুল্লির কার্যক্রম পরীক্ষা করে শক্তি উৎপাদনের মাত্রা বাড়ানো হয়। নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।



