মাস্টার্স-পিএইচডিতে ১৫ হাজার ডলারের বৃত্তি

কানাডায় উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পেতে যেসব যোগ্যতা লাগবে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

কানাডায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার কানাডীয় ডলারের বৃত্তি দিচ্ছে অন্টারিও গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ (ওজিএস) কর্মসূচি। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য এ বৃত্তিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অন্টারিও প্রদেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত কিংবা অধ্যয়নের পরিকল্পনা রয়েছে—এমন যোগ্য শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ওজিএস মেধাভিত্তিক বৃত্তি। এর লক্ষ্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা। তবে বৃত্তি পেলেই পড়াশোনার সব খরচ বহন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীদের যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শর্ত এবং বৃত্তির জন্য নির্ধারিত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।

বৃত্তির পরিমাণ ও সুবিধা

ওজিএসের আওতায় শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক দুই শিক্ষাকাল বা টার্মের জন্য ১০ হাজার কানাডীয় ডলার এবং তিনটি ধারাবাহিক টার্মের জন্য ১৫ হাজার কানাডীয় ডলার পেতে পারেন। তিন টার্মের বৃত্তির পরিমাণ প্রতি টার্মে ৫ হাজার কানাডীয় ডলার।

এ বৃত্তি বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে বৃত্তির মেয়াদ, পরিমাণ ও প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ এবং নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে

অন্টারিও প্রদেশের ১৯টি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো—

১. ব্রক ইউনিভার্সিটি
২. কার্লটন ইউনিভার্সিটি
৩. ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফ
৪. লেকহেড ইউনিভার্সিটি
৫. লরেনশিয়ান ইউনিভার্সিটি
৬. ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি
৭. নিপিসিং ইউনিভার্সিটি
৮. ওসিএডি ইউনিভার্সিটি
৯. অন্টারিও টেক ইউনিভার্সিটি
১০. ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া
১১. কুইন্স ইউনিভার্সিটি
১২. টরন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
১৩. ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো
১৪. ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি
১৫. ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু
১৬. ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
১৭. উইলফ্রিড লরিয়ার ইউনিভার্সিটি
১৮. ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর
১৯. ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি।

আবেদনের যোগ্যতা

আবেদনকারীকে অংশগ্রহণকারী কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি প্রোগ্রামে পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ন্যূনতম ফলাফলসহ অন্যান্য একাডেমিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা, যোগ্যতা, বৈধ শিক্ষার্থী অনুমতিপত্রের শর্ত এবং আবেদনের শেষ সময় আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত একাডেমিক ফলাফল ও ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র, জীবনবৃত্তান্ত এবং অন্যান্য সহায়ক নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হয় না। তাই নির্দিষ্ট তালিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি-সংক্রান্ত ওয়েবপেজ থেকে জেনে নিতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে

প্রথমে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পছন্দের স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ওয়েবপেজে গিয়ে ভর্তি এবং ওজিএস বৃত্তির আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৃত্তির আবেদন করার আগে ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, শেষ সময় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।