লন্ডনে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে পরিবর্তন, অনিশ্চয়তায় অভিবাসীরা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬

লন্ডনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস ও কাজ করা অভিবাসীরা। তাঁদের আশঙ্কা, ১০ বছরের বৈধ বসবাসের ভিত্তিতে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাতিল করা হলে অনেককে লন্ডন ছাড়তে হতে পারে। এতে পরিবার পুনর্মিলনের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা জীবনও অনিশ্চয়তায় পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী জুলিয়ান গ্রান্ট ১৮ বছর বয়সের পর স্কটল্যান্ডে চলে আসেন। ২০১২ সালে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়তে লন্ডনে আসেন তিনি। পরে পিএইচডি করতে ২০১৭ সালে আবার লন্ডনে ফেরেন। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন গ্রান্ট। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করায় আগামী বছর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করার যোগ্যতা অর্জনের কথা।

তবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের এই পথ বাতিলের প্রস্তাবের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রান্ট। লন্ডনেই তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরোটা, পেশাগত ক্যারিয়ার ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার পর নিয়ম পরিবর্তন হলে তাঁকে নতুন করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত লন্ডন ছাড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

একই ধরনের অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সামি নামের আরেক অভিবাসী। পরিবারের ভিসার জন্য প্রায় ১২ হাজার পাউন্ড খরচ করার পরও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে ভারতে ফিরে যেতে হয়। আগামী বছর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের পর পরিবারকে আবার লন্ডনে ফিরিয়ে আনার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রস্তাবিত পরিবর্তনে সেই পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সামির ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী লন্ডনের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। তিনি চান, তাঁর মেয়েও লন্ডনে বড় হোক।

এদিকে, ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পথ বাতিলের প্রস্তাব এখনো কার্যকর হয়নি। সরকারও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। আবাসনবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার লন্ডনে আগে থেকেই বসবাসরত বিদেশি কর্মীদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগের পরিকল্পনার সমালোচনা করে একে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগে থেকেই লন্ডনে থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তন প্রয়োগে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, গত বছরের নভেম্বরে সরকার এমন সংস্কার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল, যার লক্ষ্য স্থায়ী বসবাসকে স্বয়ংক্রিয় অধিকার হিসেবে বিবেচনা না করে অর্জন করতে হয়—এমন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। প্রস্তাবিত সংস্কারের কয়েকটি দিক নিয়ে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: দ্য আই পেপার