জাপান যেতে বাড়বে খরচ, বিদেশিদের জন্য বাড়ছে ভিসা ফি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬
প্রায় পাঁচ দশক পর বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই ফি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
জাপানের মন্ত্রিসভা শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ জুলাই বা এর পর জমা দেওয়া সব ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সংশোধিত ফি প্রযোজ্য হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ভিসার ফি ৩,০০০ ইয়েন (প্রায় ২,২০০–২,৩০০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ ইয়েন (প্রায় ১১,০০০–১১,৩০০ টাকা) করা হয়েছে। একইভাবে একাধিকবার প্রবেশের (মাল্টিপল এন্ট্রি) ভিসার ফি ৬,০০০ ইয়েন (প্রায় ৪,৪০০–৪,৫০০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০ ইয়েন (প্রায় ২২,০০০–২২,৫০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান ভিসা ফি সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন ঘটেছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে জাপানে আগত পর্যটকের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি না।”
গত মাসে জাপানের পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে সরকারকে অভিবাসন ও আবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি বাড়ানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। নতুন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সেই ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে।
জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভিসা ফিই নয়, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ফি আবেদনভেদে ১০,০০০ ইয়েন (প্রায় ৭,৩০০–৭,৫০০ টাকা) থেকে ৭০,০০০ ইয়েন (প্রায় ৫১,০০০–৫২,৫০০ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন ফি বর্তমানে ১০,০০০ ইয়েন (প্রায় ৭,৩০০–৭,৫০০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ২,০০,০০০ ইয়েন (প্রায় ১,৪৫,০০০–১,৫০,০০০ টাকা) করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিপ্পনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এসব পরিবর্তন কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকার বলছে, অতিরিক্ত রাজস্ব অভিবাসন সেবা উন্নয়ন, জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদারে ব্যয় করা হবে।
জাপানের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসন ফি বজায় রেখেছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি উন্নত অর্থনীতির অন্যান্য দেশের সঙ্গে ফি কাঠামোর সামঞ্জস্য আনতে চাচ্ছে।
নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে জাপানে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা থাকা বিদেশি নাগরিকদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



