সিউলের বাইরে পর্যটকদের টানছে দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রামাঞ্চল

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিদেশি পর্যটকদের শুধু রাজধানী সিউলের ব্যস্ততার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। পর্যটন পরিকল্পনায় গ্রামীণ অঞ্চলকে সামনে এনে প্রকৃতি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের সাথে ভ্রমণকারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই একটি উদাহরণ জার্মান পর্যটক সারা ফিডলার ও মারিয়া সিডলার। ১০ দিনের সফরের শেষ দিনে তারা সিউলের ভিড় ছেড়ে চলে যান ইয়াংপিয়ং কাউন্টির দুমুলমেওরি পার্কে। উত্তর ও দক্ষিণ হান নদীর মিলনস্থলের এই স্থানটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হলেও বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি সেখানে তুলনামূলক কম।

সারা বলেন, সিউলে অনেক ভিড় থাকায় তারা কিছুটা শান্ত পরিবেশে যেতে চেয়েছিলেন। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর ইচ্ছা থেকেই তারা ইয়াংপিয়ংয়ে যান।

দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটন পরিকল্পনার লক্ষ্যও এখন রাজধানীর বাইরে পর্যটন ছড়িয়ে দেওয়া। ইয়াংপিয়ংয়ের সোহুরি ফরেস্ট এরই মধ্যে বিটিএস ভক্তদের কাছে পরিচিত একটি স্থান। ২০১৯ সালে বিটিএস সেখানে অফিসিয়াল ফটোশুট করেছিল।

গ্রামীণ পর্যটনের আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পানীয় মাকগেওলি, ঐতিহ্যবাহী উৎসব, পাহাড়ি বনভূমি এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা। এসব অভিজ্ঞতা বিদেশি পর্যটকদের জন্য সিউলকেন্দ্রিক ভ্রমণের বাইরে নতুন একটি দিক তুলে ধরছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটন কর্তৃপক্ষের মতে, রাজধানীতে পর্যটকের চাপ বাড়তে থাকায় তাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে সিউলের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকার কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে যুক্ত মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তাই শুধু নতুন পর্যটনকেন্দ্র তৈরি নয়; পর্যটনের অর্থনৈতিক সুবিধা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া। এতে বিদেশি ভ্রমণকারীরা যেমন ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাবেন, তেমনি গ্রামীণ এলাকাগুলোও পর্যটন অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠতে পারে।