পর্যটন প্রতিযোগিতায় ১১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৯৮

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ২০২৬’-এ ১১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৮তম। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মূল্যায়নভুক্ত ১৮টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে নিচে।

এর আগে ২০২৪ সালের সূচকে ১১৯টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৯তম। ওই সময় দেশের স্কোর ছিল ৩ দশমিক ১৯। সর্বশেষ সূচকে স্কোর বেড়ে ৩ দশমিক ৩৪ হলেও তা বৈশ্বিক গড় ৪ দশমিক ১-এর চেয়ে অনেক কম।

দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও সবচেয়ে পিছিয়ে। এ অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ৩১তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এরপর শ্রীলঙ্কা ৬৯তম, নেপাল ৮৬তম এবং পাকিস্তান ৯৫তম অবস্থানে রয়েছে।

দুই বছর পরপর প্রকাশিত ডব্লিউইএফের এই সূচকে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, অবকাঠামো, নীতিগত সহায়তা, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং সেবার মানসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। ১৭টি স্তম্ভের অধীনে ১০২টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্ভাবনা থাকলেও দুর্বল অবকাঠামো

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক ও পরিবেশভিত্তিক পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো, সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে। দেশের পর্যটন খাত এখনো মূলত অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশও অবকাশ যাপনের পরিবর্তে ব্যবসা বা কাজের প্রয়োজনে বাংলাদেশে আসেন এবং স্বল্প সময় অবস্থান করেন।

সূচকের ‘ভ্রমণ ও পর্যটন সম্পদ’ বিভাগে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও টেকসইতার ক্ষেত্রে দুর্বল ফল করেছে। ভিসা সুবিধা, বিমান যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক আতিথেয়তার সুনাম এবং পাসপোর্টের ভ্রমণ সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে রয়েছে।

পর্যটন সেবা ও অবকাঠামোর দুর্বলতাও সূচকে বাংলাদেশের নিচের দিকে থাকার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক, ধর্মীয়, প্রকৃতিনির্ভর ও আঞ্চলিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

শীর্ষে জাপান

বিশ্বব্যাপী পর্যটন প্রতিযোগিতায় এবার আমেরিকাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে জাপান। তালিকায় এরপর রয়েছে আমেরিকা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স।

ডব্লিউইএফের তথ্য অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১৫০ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা ৩০ কোটি ছাড়িয়েছে। এতে বৈশ্বিক পর্যটন খাত দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের পথে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্ব পর্যটন খাত যখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা। দেশের বিদ্যমান পর্যটন সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো, সেবা, যোগাযোগ ও প্রচারণায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না বাড়ালে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া কঠিন হবে।