জনসংখ্যা বাড়াতে আবার অভিবাসনে জোর দিচ্ছে কানাডা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬
অভিবাসন প্রবাহ কমিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এবার আবারও জনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই ভবিষ্যতে কখন এবং কীভাবে জনসংখ্যা বাড়ানো হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তবে নতুন করে কতজন অভিবাসী নেওয়া হতে পারে বা ভবিষ্যৎ অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কত হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।
কানাডার আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারকে প্রতিবছর পরবর্তী কয়েক বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করতে হয়। সেই অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের নতুন ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান’ প্রকাশ হওয়ার কথা। নতুন পরিকল্পনায় স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
কার্নির এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ০.৫ শতাংশ। ১৯১৫-১৬ সালের পর জুলাই থেকে জুলাই হিসাবে এটিই কানাডার সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার।
একই সময়ে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ লাখ ৮৪ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ৭.২ শতাংশ।
গত কয়েক বছরে আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে কানাডা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটে। এর অংশ হিসেবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানো এবং স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের হার মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমান ২০২৬-২০২৮ অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন আগমনের সংখ্যা ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে সীমিত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের আরেকটি লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।
তবে সাম্প্রতিক জনসংখ্যার পরিসংখ্যান এবং শ্রমবাজারের চাহিদা নতুন করে অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির শ্রমশক্তি, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন নীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিবাসন নীতি নিয়ে অবশ্য একক মত নেই। সিডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসনবিষয়ক কাউন্সিল আগামী কয়েক বছর অভিবাসনের হার নিয়ন্ত্রিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অনেক পর্যবেক্ষক অভিবাসন বাড়ানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এখন এমন একটি ভারসাম্য খুঁজছে, যাতে একদিকে আবাসন ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, অন্যদিকে অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এ কারণে আগামী ১ নভেম্বর প্রকাশ হতে যাওয়া নতুন অভিবাসন পরিকল্পনার দিকে নজর রয়েছে অভিবাসনপ্রত্যাশী, শিক্ষা খাতের অংশীজন ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের। ওই পরিকল্পনাতেই পরিষ্কার হবে, কানাডা অভিবাসন কমানোর বর্তমান নীতি বজায় রাখবে, নাকি নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে আবারও এগোবে।



