৩ হাজার অভিবাসীর শিবির উচ্ছেদে সেউটায় অভিযান
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৬
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল সেউটার ট্রাম্পোলিন সৈকতে গড়ে ওঠা বিশাল অভিবাসী শিবির উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রোববার শুরু হওয়া অভিযান গতকাল সোমবারও অব্যাহত ছিল। এরই মধ্যে শত শত অভিবাসী মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ট্রাম্পোলিন সৈকতের অস্থায়ী শিবিরটিতে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছিলেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউটায় প্রবেশের পর শিবিরটি দ্রুত শহরের সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসী বসতিতে পরিণত হয়।
কাঠ, প্লাস্টিক ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিলেন অভিবাসীরা। প্রতিদিন রেড ক্রস তাদের খাদ্য সহায়তা দিত।
স্পেনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল থেকে শিবির এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রায় ৫০টি ভ্যান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান ও সামরিক বাহিনীর গাড়ি মোতায়েন করে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিবিরটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে ধাপে ধাপে অভিবাসীদের সরিয়ে নেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে। এ সময় কয়েকজন অভিবাসী সাঁতরে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন।
উচ্ছেদ হওয়া অভিবাসীদের সামনে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়। তারা পরিচয় দিয়ে সেউটার বিদেশি আটক কেন্দ্র বা সিএটিইতে নিবন্ধন করলে সরকারি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আবাসনকেন্দ্রে রাখা হবে। আর পরিচয় নিবন্ধন না করে সরাসরি মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৬০০ জন দ্বিতীয় পথ বেছে নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক অভিবাসী পরিচয় নিবন্ধন করতে চান না। কারণ এতে ভবিষ্যতে তাঁদের বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৫ অক্টোবরও ট্রাম্পোলিন সৈকত ও আশপাশের এলাকায় অভিযান অব্যাহত ছিল। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রাখে এবং যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। আগের দিনের অভিযান দেখে অনেক অভিবাসী আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অবশ্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের থানায় নিয়ে নিবন্ধনের পর বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। ইউরোপীয় আইনের কারণে ১৮ বছরের কম বয়সীদের সাধারণ বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় পাঠানো যায় না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্পোলিন শিবির পুরোপুরি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আগামী কয়েক দিন অভিযান চলবে।



