অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে বড় পরিকল্পনা, বাদ পড়তে পারে স্নাতক ভিসা

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে আগামী চার বছরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অস্থায়ী ভিসাধারী কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর ঘোষিত এই নীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর ভিসাধারী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা বড় পরিসরে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর নিট অভিবাসন বছরে ১ লাখে নামিয়ে আনা হবে। তৃতীয় বছরে তা ১ লাখ ৩০ হাজার এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের লক্ষ্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরে নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিবর্তন

প্রস্তাবিত নীতিতে অস্থায়ী স্নাতক ভিসা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করা এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য সীমিত পরবর্তী পড়াশোনা-পরবর্তী ভিসার সুযোগ রাখা হবে। বর্তমানে অস্থায়ী স্নাতক ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার।

নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বছরে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করার প্রস্তাবও রয়েছে। একইসাথে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভিসা তাদের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন, তার সাথে যুক্ত রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় বা পরবর্তী অস্থায়ী ভিসার আবেদন করতে হলে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করার নিয়ম চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে নতুন অস্থায়ী ভিসার আবেদন করার সুযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত হবে।

ব্রিজিং ও মানবিক ভিসাতেও কাটছাঁট

বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় ব্রিজিং ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১৪ হাজার থেকে ২০ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে। মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে বছরে ১০ হাজার করার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষ কর্মীদের অস্থায়ী ভিসা বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। নির্মাণসহ শ্রমিক সংকটে থাকা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিরোধী জোট। স্বাস্থ্য খাতের কিছু কর্মীর জন্যও বিশেষ ছাড় ও পরিবর্তনকালীন সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

অ্যাঙ্গাস টেইলর এই পরিকল্পনাকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে নীতিটির পূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাবের মডেলিং এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিরোধী জোট জানিয়েছে, ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে নীতিটির ব্যয়সংক্রান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী জোট সরকার গঠন করতে পারে কি না তার ওপর। ফলে বর্তমানে এটি কার্যকর ভিসা নীতি নয়, বরং বিরোধী জোটের নির্বাচনী অভিবাসন পরিকল্পনা।