আমেরিকায় ইন্টার্নশিপের নিয়ম বদল, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬
আমেরিকায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি) নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা সংগঠনগুলো। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ব্যাখ্যায় সিপিটির অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের সিপিটির যোগ্যতা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দেয়।
নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ তখনই সিপিটি হিসেবে অনুমোদন করা যাবে, যখন সেটি প্রতিষ্ঠিত পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে এবং ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমের সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হবে।
এর ফলে আগে কোর্সের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ বা কাজের অভিজ্ঞতা নেওয়ার যেসব সুযোগ শিক্ষার্থীরা পেতেন, তার কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিপিটির আবেদন ও শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করছে।
গত ৫ অক্টোবর অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ), নাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস, প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইনডিপেনডেন্ট কলেজেস অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজ ইন ম্যাসাচুসেটস যৌথভাবে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আদালতে মামলা করে।
মামলাকারী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সিপিটি নীতির ব্যাখ্যা হঠাৎ পরিবর্তন করেছে। তাদের দাবি, নতুন ব্যাখ্যা আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনগুলো আদালতের কাছে নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োগ স্থগিত ও তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিপিটি কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে নতুন ব্যাখ্যার কারণে অনুমোদনের শর্ত কঠোর হয়েছে। তাই সিপিটির আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পরামর্শকের সাথে যোগাযোগ করা জরুরি।
সিপিটির অনুমোদন এবং হালনাগাদ ফর্ম আই-২০ না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কাজে যোগ দিতে পারবেন না। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপরও পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।



