শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা চাকরিচ্যুত
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (OIS) পুরান ঢাকা ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশু জাদোয়া আয়াত কায়নাতের মায়ের অভিযোগ, গত ৩০ আগস্ট শ্রেণিকক্ষে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা, শারীরিকভাবে আঘাত করা এবং চোখে পেন্সিল দিয়ে আঘাত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন লিটারেচার ক্লাসে বোর্ডে লেখা শব্দ খাতায় তুলছিল আয়াত। এ সময় শ্রেণিশিক্ষক তাসনিম আজাদ সুপ্তির সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির খাতা কেড়ে নিয়ে তাকে প্রায় ৪৭ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্য শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় শিশুটি তার অসুস্থ মায়ের কথা উল্লেখ করে শিক্ষিকার কাছে খাতায় লেখার সুযোগ চায়। তার মা আগে দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, এরপরও শিশুটিকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং হাত মুচড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ধারালো পেন্সিল দিয়ে তার ডান চোখে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে অভিযোগ, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ঘটনার পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্য অভিভাবকদের কাছে সহায়তা চায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
শিশুটির মা আফরিণা হাসনাত স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। তাঁর অভিযোগ, প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে ফুটেজ পর্যালোচনার পর দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা চায়।
ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাসনিম আজাদ সুপ্তিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে শিশু
এ ঘটনায় শিশুটির মা ঢাকার গেন্ডারিয়া থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা এর আগেও শিশুটিকে লক্ষ্য করে বকাঝকা করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্কুলে ফিরতে ভয় পাচ্ছে শিশু
শিশুটির মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে আয়াত মানসিক আতঙ্কে ভুগছে। ঘুমের মধ্যেও ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠে এবং স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে মেধাবী শিক্ষার্থী উল্লেখ করে পুনরায় স্কুলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে আবার সেখানে পাঠানো উচিত কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার মা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।



