শিশু নির্যাতনের অভিযোগের মামলা ঘিরে উত্তেজনা, হুমকির কথা জানালেন রুমি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমার কি কোনো হিন্দু বন্ধু থাকতে পারবে না?’

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রুমি লেখেন, ‘ভয় আমার অভিধানে নেই! আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না। মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ।’

এর আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় রুমি অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সকাল থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও বার্তায় রুমি বলেন, ‘আমি যেন মামলা উঠিয়ে নিই, আমি যেন লাইভে এসে মাফ চাই। শুনে রাখো—এটা হবে না। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। নট অনলি আমি, আমরা—আমরা বাংলাদেশ, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’

‘আমার কি কোনো হিন্দু বন্ধু থাকতে পারবে না?’

মাদরাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রুমি। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব অভিযোগের জবাব দেন তিনি।

রুমির দাবি, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে গিয়ে তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁকে ভারতীয় এজেন্ট কি না, সে প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রুমি বলেন, ‘আমার দেশে কি শুধু মুসলিমরা থাকে? হিন্দু, খ্রিস্টানরা থাকে না? আমাদের কাছে স্কুলে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত সব ফুটেজ আছে। আর আমার কি কোনো হিন্দু বন্ধু থাকতে পারবে না?’

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান থেকে এমন দাবি করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রুমি।

অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার বিষয়ে যা বললেন রুমি

অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমি দাবি করেন, তিনি কোনো আলেম বা শিক্ষককে অপমান করেননি। বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁকে চড় মেরেছেন।

রুমি লেখেন, ‘থাপ্পড় দিয়ে আমি আলেমকে অপমান করি নাই, থাপ্পড় দিয়ে আমি কোনো শিক্ষককে অপমান করি নাই। আমি একজন দুশ্চরিত্র লম্পটকে থাপ্পড় দিয়েছি। সমাজের মানুষ এদের থাপ্পড় দিয়ে সোজা করে ফেলবে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণের কথা স্বীকার করেছেন এবং পরে শিশুটির নানার বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন রুমি। এসব অভিযোগের পরও কিছু মানুষ কেন অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন রুমি। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির আড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষার চেষ্টা চলছে।

নিজেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে রুমি বলেন, প্রকৃত ও ভালো আলেমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো আলেম সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে গালাগাল করারও সমালোচনা করেন রুমি। তাঁর ভাষ্য, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্যকে গালি দেওয়া ধর্মীয় শিক্ষার অংশ হতে পারে না।

আইনের মাধ্যমে শেষ দেখতে চান রুমি

ভিডিও বার্তায় আইনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন রুমি। তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাশীল। যা কিছু হবে, এখন আইনের মাধ্যমেই হবে। সে (অভিযুক্ত শিক্ষক) যেন কোনোভাবেই জামিন না পায়, সে জন্য আমরা সবাই কাজ করছি।’

ভিডিওর শেষ দিকে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রুমি বলেন, ‘আমাকে হারায়ে যাইতে দিয়েন না।’

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজালাল রুমি তাঁকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত জনতা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।

রুমির প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।